নিউজ আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
পাবনার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামের ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলি—একটি নাম, একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন; অথচ আজ সেই স্বপ্ন কেবলই স্মৃতি। কলিকে ফিরে পাওয়ার আকুতি এখনো যেন বাতাসে ভাসছে। কিন্তু বাস্তবতা নির্মম—কলি আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।
শিশু কলির ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল/প্রামাণিক ও ইয়াছিন আলী। পুলিশ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিখোঁজের সাত দিন পর কলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।
জুমার পর ক্ষোভের বিস্ফোরণ
১৮ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত মোস্তফার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বাড়িটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা উঠে এসেছে। পরবর্তী সময়েও ঘটনাস্থলটি মানুষের কৌতূহল ও ক্ষোভের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
হাতুড়ির আঘাত, ইট-পাটকেল কিংবা জুতা-স্যান্ডেলের আঘাতে একটি বাড়ি হয়তো ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশে যেতে পারে। কিন্তু তাতে কি কলি ফিরে আসবে?
না।
ভেঙে যাওয়া দেয়াল কলির হাসি ফিরিয়ে দেবে না।
গুঁড়িয়ে যাওয়া বাড়ি তার শৈশব ফিরিয়ে দেবে না।
মানুষের ক্ষোভ হয়তো কিছুটা প্রকাশের সুযোগ পাবে, কিন্তু একটি পরিবারের বুকের শূন্যতা পূরণ হবে না কোনোদিন।
মানুষের আবেগের পেছনে যে প্রশ্ন
এই ঘটনার পর মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার পেছনে রয়েছে একটি গভীর প্রশ্ন—শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?
আইন আছে, প্রশাসন আছে, তদন্ত আছে, আদালত আছে। কিন্তু মানুষ চায়—অপরাধের অভিযোগের তদন্ত দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে শেষ হোক এবং আদালতে প্রমাণিত অপরাধের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত হোক।
শুধু কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেই মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না; প্রয়োজন অপরাধের দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত, কার্যকর বিচারপ্রক্রিয়া এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ।
তবে কোনো ব্যক্তি অভিযুক্ত হলেই তিনি আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যান না। তাই জনতার আবেগের পাশাপাশি আইনের শাসন ও বিচারিক প্রক্রিয়াকেও সম্মান করা জরুরি।
একটি বাড়ি ভাঙলে অপরাধ কমে না
আজ যে বাড়িটি মানুষের ক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠেছে, সেটি ভেঙে ফেলা কোনো শিশুর নিরাপত্তার স্থায়ী সমাধান নয়।
বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—কীভাবে এমন অপরাধ প্রতিরোধ করা যাবে?
কীভাবে শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে?
কীভাবে সন্দেহজনক আচরণ দ্রুত শনাক্ত হবে?
কীভাবে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে?
আর সবচেয়ে বড় কথা—কোনো শিশু যেন কলির মতো পরিণতির শিকার না হয়।
কলির জন্য ন্যায়বিচার মানে প্রতিশোধ নয়
কলির প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও ক্ষোভ স্বাভাবিক। কিন্তু সেই আবেগ যেন আরেকটি অন্যায় সৃষ্টি না করে—এটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
কলিকে ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হতে পারে তার জন্য সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং ভবিষ্যতের শিশুদের নিরাপত্তার দাবি।
কলি ফিরে আসবে না।
তার ঘর থেকে আর কোনোদিন শিশুকণ্ঠে ডাক আসবে না। তার পরিবারের অপেক্ষার দরজা আর কোনোদিন আগের মতো খুলবে না।
কিন্তু কলির মৃত্যু যদি সমাজকে প্রশ্ন করতে শেখায়, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল করে, আর আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি আরও শক্তিশালী করে—তাহলে কলির স্মৃতি একটি বড় সামাজিক সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে।
বাড়ি ভেঙে মাটিতে মিশে যেতে পারে; কিন্তু ন্যায়বিচারের দাবি যেন মাটিতে মিশে না যায়।
কলি আর ফিরবে না—তাই তার জন্য প্রতিশোধ নয়, চাই সত্য উদঘাটন, ন্যায়বিচার এবং শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ
অপরাধ ও দুর্নীতি
অর্থনীতি
আইন আদালত
আন্তর্জাতিক
গণমাধ্যম
নারী ও শিশু
ফেসবুক নিউজ
রাজশাহী
সর্বশেষ
সারাদেশ
কলিকে দেখার স্বপ্ন, আর ফিরবে না—আবেগে ভাঙছে অভিযুক্তের বাড়ি
