!
অবৈধ ও পরিবেশবিধ্বংসী জাল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি, নইলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হারাবে দেশীয় মাছের বৈচিত্র্য
নিউজ: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
বাংলাদেশের নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় ও জলাশয় একসময় ছিল দেশীয় মাছের সমৃদ্ধ ভান্ডার। কৈ, শিং, মাগুর, টাকি, শোল, পুঁটি, মলা, ঢেলা, টেংরা, চিতলসহ নানা প্রজাতির মাছ গ্রামবাংলার মানুষের খাদ্যতালিকা ও জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে অনেক এলাকায় এসব মাছের প্রাচুর্য কমে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও আগের মতো সহজে দেশীয় মাছের দেখা মেলে না।
এ অবস্থায় মাছ ধরার অনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতি, নিষিদ্ধ বা ক্ষতিকর জালের ব্যবহার, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ, জলাশয় ভরাট, দূষণ এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের মতো বিষয়গুলো নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। এর মধ্যে বাজারে প্রচলিত ‘চায়না জাল’ নামে পরিচিত কিছু সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল নিয়ে জেলে, মৎস্যজীবী ও পরিবেশসচেতন মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
চায়না জাল: মাছ ধরার সহজ উপায়, নাকি জলজ সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি?
তাৎক্ষণিকভাবে বেশি মাছ ধরার লোভে এমন কোনো জাল ব্যবহার করা হলে, যা ছোট-বড় নির্বিশেষে মাছ আটকে ফেলে এবং নির্বিচারে জলজ প্রাণী আহরণ করে, তাহলে তা মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার ও জলজ পরিবেশের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অপরিণত মাছ ও প্রজননক্ষম হওয়ার আগেই ছোট মাছ ব্যাপকভাবে ধরা পড়লে ভবিষ্যতে মাছের মজুত পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে যেতে পারে।
তবে ‘চায়না জাল’ নামে পরিচিত সব জালের গঠন ও কার্যকারিতা এক নয়। তাই কোন ধরনের জাল আইনত নিষিদ্ধ, কোনটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং কোন ব্যবহারে মাছের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—তা সংশ্লিষ্ট জালের ধরন, ফাঁসের আকার, ব্যবহারপদ্ধতি ও প্রচলিত মৎস্য আইন অনুযায়ী যাচাই করা জরুরি।
মাছের ডিম ও পোনা ধ্বংস হলে ক্ষতি সবার
মাছ শুধু আজকের বাজারের পণ্য নয়; এটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, পুষ্টি ও অসংখ্য মানুষের জীবিকার অংশ। মাছের প্রজননক্ষেত্র নষ্ট হলে কিংবা পোনা বড় হওয়ার আগেই নির্বিচারে ধরা পড়লে এর প্রভাব পড়ে পুরো জলজ পরিবেশে। দীর্ঘমেয়াদে মাছের উৎপাদন কমতে পারে, ক্ষুদ্র জেলেদের আয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে অনেক দেশীয় মাছ।
প্রশ্ন হচ্ছে—কয়েক ঘণ্টায় বেশি মাছ ধরার জন্য যদি একটি জলাশয়ের ভবিষ্যৎ উৎপাদনই নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সেই লাভের মূল্য কে দেবে? শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে জেলে, ভোক্তা, পরিবেশ এবং পরবর্তী প্রজন্ম।
নিজের হাতে নিজের সম্পদ ধ্বংস করা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। যে জাল মাছের বংশবিস্তার ও জলজ পরিবেশের ক্ষতি করে, তার ব্যবহার বন্ধে জেলেদের সচেতন হতে হবে এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

You missed