নিজস্ব প্রতিবেদক | আব্দুস শুকুর
পাবনা থেকে রাজধানী ঢাকার কমলাপুর পর্যন্ত নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলার সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ সেবা চালু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রস্তাবিত রুট, স্টপেজ এবং পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে ইতোমধ্যে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত দেখা দিয়েছে।
যাত্রীদের একটি বড় অংশের মতে, আন্তঃনগর ট্রেনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দ্রুত, নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করা। বর্তমানে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পাবনা থেকে বাসে ঢাকা যেতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। সড়কপথে যানজটের ঝুঁকি থাকলেও ট্রেন যদি ছয় ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় নেয়, তাহলে অনেক যাত্রীর কাছে এর আকর্ষণ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তঃনগর ট্রেনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সীমিত সংখ্যক স্টপেজ রেখে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো। সে কারণে প্রতিটি ছোট স্টেশনে ট্রেন থামানোর পরিবর্তে যাত্রীচাহিদা, জনঘনত্ব এবং বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে স্টপেজ নির্ধারণ করা হলে সেবার মান আরও উন্নত হতে পারে।
এদিকে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সম্ভাব্য পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে। বিভিন্ন সূত্রে আলোচনায় এসেছে, ট্রেনটি পাবনা থেকে যাত্রা শুরু করে মাঝগ্রাম পর্যন্ত গিয়ে পুনরায় ঈশ্বরদীতে ফিরে কিছু সময় অবস্থান করতে পারে। যদি এমন ব্যবস্থায় ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর্যন্ত অতিরিক্ত বিরতি দিতে হয়, তাহলে তা যাত্রীদের সময় নষ্ট করবে বলে অনেকের মত। যাত্রীদের প্রশ্ন, প্রযুক্তিগত বা পরিচালনাগত প্রয়োজন না থাকলে মাঝগ্রাম থেকে সরাসরি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করা সম্ভব কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনা করা উচিত।
এ বিষয়ে অনেকেই স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি কোনো এলাকার বিরুদ্ধে অবস্থান নয়। ঈশ্বরদী পাবনা জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা এবং এর যোগাযোগগত গুরুত্ব রয়েছে। তবে যেহেতু এটি পাবনা-ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেন, তাই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত পাবনা থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের সময়, সুবিধা এবং সেবার মান।
একইভাবে উল্লাপাড়াসহ নতুন কোনো স্টপেজ যুক্ত করার বিষয়েও যাত্রীসেবার বাস্তবতা, সম্ভাব্য যাত্রীসংখ্যা এবং যাত্রার মোট সময় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত স্টপেজ যুক্ত হলে যাত্রার সময় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা আন্তঃনগর ট্রেনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
অন্যদিকে গাজীপুর অঞ্চলে কর্মসূত্রে বিপুলসংখ্যক পাবনাবাসীর বসবাসের কারণে অনেক যাত্রী দীর্ঘদিন ধরে জয়দেবপুর স্টেশনে একটি স্টপেজের দাবি জানিয়ে আসছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, চূড়ান্ত পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় এই বাস্তব চাহিদাটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
সচেতন মহলের অভিমত, নতুন আন্তঃনগর ট্রেনটি চালুর আগে রুট, স্টপেজ ও পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে যাত্রীদের মতামত গ্রহণ করলে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে যাত্রার সময় কমিয়ে আধুনিক, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য রেলসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংযোগ বাংলা টিভির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান—চূড়ান্ত রুট ও স্টপেজ নির্ধারণের আগে যাত্রীদের বাস্তব চাহিদা, সময়ের মূল্য এবং সেবার মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি কার্যকর ও যাত্রীবান্ধব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক।
নিউজ: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
