ঢাকা প্রতিনিধি:
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের ঢাকা-১১, ঢাকা-১২ ও ঢাকা-১৭ আসনের থানা দায়িত্বশীলদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর বারিধারায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর কার্যালয়ের শহীদ নিজামী (রহ.) মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
রাড্ডা এমসি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, ওই ঘটনায় সরকারদলীয় দুই নারী সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। গণমাধ্যমে তাদের পরিচয় প্রকাশের পরও কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না—এ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
রেজাউল করিম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম একটি নতুন দেশের প্রত্যাশা করেছিল। তার দাবি, বর্তমান সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলার বিষয়ে তিনি আন্তর্জাতিক আইনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের একটি বড় অংশ অসহায় নারী ও শিশু। প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি অনুদানের মাধ্যমেও পরিচালিত হওয়ায় এ ধরনের ঘটনায় বিদেশি সহযোগিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
গণভোট প্রসঙ্গে রেজাউল করিম দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবি জানিয়েছিল। তার অভিযোগ, এখন নতুন করে গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা জনগণের পূর্বের মতামতকে পাশ কাটানোর চেষ্টা হবে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চগুলো সরকার পতনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে করা হয়েছে বলে তাদের অবস্থান।
এদিকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের প্রসঙ্গও সমাবেশে উঠে আসে। রেজাউল করিম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে এ ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজধানীর ইসিবি চত্বরের ওই হামলার পেছনে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সামনে এসেছে। ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।
রেজাউল করিম বলেন, তদন্তে যার বিরুদ্ধে যে ধরনের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
সমাবেশ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং জনগণের দুর্ভোগ নিরসনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি এবং রামপুরা অঞ্চল পরিচালক নাজিম উদ্দীন মোল্লা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী পরিচালক এবং গুলশান অঞ্চল পরিচালক ইয়াসিন আরাফাত, হাতিরঝিল অঞ্চল পরিচালক হেমায়েত হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য হেদায়েত উল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।

You missed