জনগণের ঘাড়ে পা রেখে ক্ষমতায়, ক্ষমতায় গিয়েই জনগণকে ভুলে যাওয়া—আর কত?
নিউজ: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিশ্রুতির যেন শেষ নেই। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতির বন্যা, ক্ষমতায় যাওয়ার পর বাস্তবায়নের খরা—এটাই কি আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির নির্মম বাস্তবতা?
একজন ওয়ার্ড মেম্বার থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, সংসদ—এমনকি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত জনগণের সামনে নানা অঙ্গীকার করা হয়। বলা হয়—ক্ষমতায় গেলে মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে, বৈষম্য দূর হবে, উন্নয়ন হবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতির কতটুকু বাস্তবে দেখা যায়?
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গভীর ক্ষত ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শিক্ষার্থী থেকে সাধারণ মানুষ—অনেকেই রাস্তায় নেমেছিলেন। আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহে বহু প্রাণহানি ও অসংখ্য মানুষ আহত হন। কেউ হারিয়েছেন আপনজন, কেউ হারিয়েছেন চোখের দৃষ্টি, কেউ আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
তাদের ত্যাগের বিনিময়ে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, আজ সেই প্রত্যাশার কতটুকু পূরণ হয়েছে—এ প্রশ্ন কি করা যাবে না?
যারা রাস্তায় জীবন দিয়েছে, যারা রক্ত দিয়েছে, যারা আহত হয়েছে—তাদের ত্যাগ কি শুধুই ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি ছিল?
জনগণের ভোট ও সমর্থন পাওয়ার আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রশ্ন উঠলেই যদি বলা হয়—আইন, সংবিধান বা নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব নয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—
তাহলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল কেন?
জনগণের কাছে অঙ্গীকার করা হয়েছিল কেন?
যে প্রতিশ্রুতির ওপর মানুষ বিশ্বাস রেখেছিল, তার দায় নেবে কে?
রাজনীতিতে প্রতিশ্রুতি কোনো তামাশা নয়। একটি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মানুষের আশা, স্বপ্ন এবং ভোটের সিদ্ধান্ত জড়িত। তাই জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে তাদের দাবি ও প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করা হলে সেটি শুধু রাজনৈতিক ব্যর্থতা নয়—এটি জনগণের আস্থার সঙ্গে প্রতারণার প্রশ্নও তৈরি করে।
আজ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ জানতে চায়—ক্ষমতা কি জনগণের জন্য, নাকি জনগণ শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যম?
যে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, ত্যাগ ও আত্মত্যাগের কথা বলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি তোলা হয়েছিল, তাদের প্রত্যাশার কতটুকু পূরণ হয়েছে—তার স্বচ্ছ হিসাব জনগণের সামনে আসা দরকার।
আরেকটি কঠিন বাস্তবতাও ভুলে গেলে চলবে না। ইতিহাসে কোনো ক্ষমতাই চিরস্থায়ী নয়। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা সরকারও একসময় জনগণের আন্দোলন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখে ক্ষমতা হারিয়েছে। আজ যারা ক্ষমতায়, আগামী দিনে ইতিহাস তাদেরও বিচার করবে।
আজকের ক্ষমতাবান আগামী দিনের বিরোধী হতে পারেন, আজকের শাসক আগামী দিনে জনগণের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারেন।
তাই প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি বন্ধ করে জনগণের সামনে বাস্তব কাজের হিসাব দেওয়ার সময় এসেছে।
জনগণ এখন আর শুধু স্লোগান শুনতে চায় না।
শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না।
শুধু আশ্বাসে বিশ্বাস করতে চায় না।
জনগণ চায়—কাজের প্রমাণ, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহি।
কারণ জনগণ কারও করুণা চায় না। জনগণ তাদের অধিকার চায়।
আর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন শিক্ষা হলো—
জনগণকে যতদিন বোবা ও অসহায় ভাবা হবে, ততদিনই প্রতিশ্রুতির রাজনীতি চলবে। কিন্তু একদিন সেই জনগণই প্রশ্ন করবে—প্রতিশ্রুতি কোথায়?
সেই প্রশ্নের উত্তর তখন বক্তৃতা দিয়ে নয়, দিতে হবে কাজের হিসাব দিয়ে।
এটাই প্রতিবাদের ভাষা।
এটাই জনগণের প্রশ্ন।
এটাই বাস্তবতার কঠিন আয়না।
নিউজ: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
যোগাযোগ: 01727034690
