জামাই প্রশাসনের সহযোগিতায়, শ্বশুর সাংবাদিকদের সহযোগিতায়—কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ!
পাবনার আতাইকুলায় এবার দেখা গেল এক অভিনব প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগী আর কেউ নন—একজন জামাই, অন্যজন তার শ্বশুর!
একদিকে শেখ মোঃ নবীর উদ্দিন, পাবনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য। অন্যদিকে তার শ্বশুর আব্দুস শুকুর, সম্পাদক—সংযোগ বাংলা টিভি।
ঘটনা ঘটলেই জামাই ছুটে যান প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা নিয়ে, আর শ্বশুর ছুটে যান সাংবাদিকদের নিয়ে। লক্ষ্য একটাই—সবার আগে ঘটনার সত্যতা বের করে আনা।
এবার ঘটনা আরও জমে গেল!
সম্প্রতি ইউরোপে যাওয়ার পথে মোঃ নাহিদ হোসেন নামে আতাইকুলার এক যুবক নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে শুরু হয় অনুসন্ধান। সেই সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একই বাড়িতে হঠাৎ দেখা—জামাই ও শ্বশুরের!
এরপর শুরু হয় খোঁজখবর।
শেষ পর্যন্ত জানা গেল, নিখোঁজ নাহিদ হোসেন নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছেন।
নাহিদের বাড়ি পাবনা জেলার আতাইকুলা থানার আতাইকুলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও কবরস্থানের পাশেই।
নাহিদের সাক্ষাৎকার নিতে হাজির শ্বশুর আব্দুস শুকুরসহ একঝাঁক সাংবাদিক। আর এদিকে নাহিদের ফিরে আসার ঘটনায় জামাই শেখ মোঃ নবীর উদ্দিনের প্রচেষ্টার কথাও উঠে আসে।
কিন্তু আসল রহস্য শুরু হলো এরপর!
সাক্ষাৎকার শেষ করে আতাইকুলা বাজারের একটি রেস্টুরেন্টে নাস্তা করতে বসেন সাংবাদিকরা।
জামাই বাবু কী করলেন?
সবার নাস্তার বিল দিয়ে দিলেন!
সবাই খুশি।
কিন্তু শ্বশুর আব্দুস শুকুরের মুখে হাসি নেই!
কারণ—
সবার বিল দিলেও শ্বশুরকে একটি পান পর্যন্ত খাওয়ানো হলো না!
ব্যস! এতেই ক্ষুব্ধ শ্বশুরের মুখে উঠল অভিযোগ—
“এ কেমন জামাই?”
যে জামাই মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ায়, প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করে, সবার নাস্তার বিলও পরিশোধ করে—
সেই জামাই শ্বশুরকে একটি পান খাওয়াতে পারল না কেন?
এখন শ্বশুরের প্রশ্ন—
“জামাই বাবুর এই অপরাধের শাস্তি কী হওয়া উচিত?”
আপনারাই বলুন—
👉 জামাই কি সত্যিই ‘বেইমান’?
👉 নাকি শ্বশুরের পান না পাওয়ার কষ্টটাই আসল?
👉 নাকি জামাই-শ্বশুরের এই প্রতিযোগিতা আসলে ভালোবাসারই নতুন রূপ?
সিদ্ধান্ত এখন আপনাদের হাতে!
আর একটা কথা ঠিক—
সত্য উদঘাটনের প্রতিযোগিতায় জামাই-শ্বশুর কেউ কাউকে হার মানতে নারাজ।
তবে পান খাওয়ানোর প্রতিযোগিতায় কে জিতবেন—
সেটাই এখন দেখার বিষয়!
নিউজ ও উপস্থাপনায়: আব্দুস শুকুর
সম্পাদক: সংযোগ বাংলা টিভি
