দেশের চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে আশার আলো দেখাচ্ছে পাবনার মোবারকপুর। উত্তরাঞ্চলে দেশীয় গ্যাসের সম্ভাবনা যাচাই ও অনুসন্ধানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড—বাপেক্স নতুন করে মোবারকপুরে গভীর কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে।
পাবনার সুজানগর উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়নের কুড়িপাড়া এলাকায় চলছে কূপ খননের প্রস্তুতিমূলক কাজ। এবার ৬ কিলোমিটারেরও বেশি গভীরে গিয়ে গ্যাসের সন্ধান করা হবে। এ কাজে চীনের CNPC Chuanqing Drilling Engineering Company Limited (CCDC)-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে বাপেক্স।
এর আগে ২০১৪ সালে মোবারকপুরে প্রায় ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার গভীরতায় যাওয়ার লক্ষ্য থাকলেও অতিরিক্ত গ্যাসচাপ ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে কাজটি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এবার উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও গভীরে অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মোবারকপুর এলাকায় একাধিক ভূকম্পন জরিপে গ্যাসের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পেট্রোবাংলা ১৯৮০-৮১ ও ১৯৮৩-৮৪ সালে এবং বাপেক্স পরবর্তীতে ২০০৬-০৭ ও ২০০৭-০৮ সালে জরিপ চালায়। এসব জরিপের ফলাফল মোবারকপুরে গ্যাসের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, মোবারকপুর ডিপ-১সহ তিনটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের জন্য মোট ১ হাজার ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ঋণ সহায়তা থাকবে ৯০৯ কোটি টাকা এবং বাপেক্স নিজস্ব অর্থায়নে দেবে ২২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সফল হলে মোবারকপুর থেকে দৈনিক অন্তত ২ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে এবং প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত উৎপাদন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে গ্যাসের প্রকৃত মজুত ও বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য পরিমাণ কূপ খনন ও পরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বর্তমানে মোবারকপুরে ভূমি অধিগ্রহণ ও সাইট উন্নয়নের কাজ চলছে। বাপেক্স জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৮ সালের জুনের মাঝামাঝি সময়ে গভীর কূপ খনন শুরু হতে পারে। সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এই প্রকল্প সফল হলে শুধু পাবনা নয়, উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পায়নের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়লে আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তবে এখনই মোবারকপুরে বিপুল গ্যাসের মজুত নিশ্চিত হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। কূপ খনন, পরীক্ষা ও বাণিজ্যিক মূল্যায়নের পরই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে সেখানে কতটা গ্যাস রয়েছে।
তবুও গ্যাস সংকটের সময়ে মোবারকপুরে নতুন করে গভীর অনুসন্ধানের উদ্যোগ পাবনার জন্য নিঃসন্দেহে একটি সম্ভাবনাময় খবর। সফলতা এলে এটি উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি অর্থনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
নিউজ: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
