সাংবাদিক ইলিয়াসের অপরাধ কী—সত্য কথা বলা, নাকি দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা?
এমন প্রশ্ন ঘুরে বেড়ায় তাঁর অনুসারী ও সমালোচকদের আলোচনায়। তবে একজন সাংবাদিককে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি প্রয়োজন তথ্য, প্রমাণ ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি।
ইলিয়াস হোসাইন বাংলাদেশের একজন পরিচিত সাংবাদিক ও অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবের মাধ্যমে দেশের রাজনীতি, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন আলোচিত ঘটনা নিয়ে তিনি নিয়মিত বক্তব্য ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন। তিনি বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর সাংবাদিকতা নিয়ে যেমন একটি বড় শ্রেণির মানুষের আগ্রহ ও সমর্থন রয়েছে, তেমনি তাঁর কিছু বক্তব্য ও প্রতিবেদনের নির্ভুলতা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে ইলিয়াস হোসাইনকে নিয়ে আলোচনা করতে গেলে শুধু প্রশংসা কিংবা সমালোচনা—কোনোটিকেই একমাত্র সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
মামলা ও বিতর্ক
ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে পিবিআইয়ের তৎকালীন প্রধান বনজ কুমার মজুমদারের করা একটি মামলার খবর প্রকাশিত হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, মিতু হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে তিনি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করেছেন। তবে এগুলো ছিল মামলার অভিযোগ—আদালতের চূড়ান্ত রায় নয়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই মামলা থেকে সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন খালাস পেয়েছেন। অর্থাৎ অভিযোগ ওঠা এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া—দুটি বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়।
তাহলে ইলিয়াসের পরিচয় কী?
ইলিয়াস হোসাইনকে নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন সূত্রে তাঁর পারিবারিক শিকড় বগুড়া জেলায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর জন্মতারিখ, শৈশব, শিক্ষাজীবন ও পারিবারিক জীবনের সব তথ্যের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক সূত্র এক জায়গায় পাওয়া যায় না। তাই যাচাই ছাড়া এসব তথ্য নিশ্চিতভাবে প্রকাশ করা সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।
বর্তমানে তাঁর পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিনি প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি ফেসবুক ও ইউটিউবকে সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন। ২০২৫ সালে যাত্রা শুরু করা ‘বাংলা এডিশন’-এর সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
কেন তিনি এত আলোচিত?
ইলিয়াস হোসাইনের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ তাঁর সরাসরি বক্তব্য, অনুসন্ধানধর্মী কনটেন্ট এবং রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলার প্রবণতা। তাঁর সমর্থকেরা মনে করেন, তিনি ভয়কে উপেক্ষা করে কথা বলেন। অন্যদিকে সমালোচকেরা তাঁর কিছু বক্তব্য ও উপস্থাপনার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এখানেই সাংবাদিকতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সামনে আসে—কোনো সাংবাদিকের বক্তব্য জনপ্রিয় হলেই তা সত্য হয়ে যায় না, আবার কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তিনি অপরাধী হয়ে যান না।
তথ্য, নথি, প্রমাণ এবং আদালতের সিদ্ধান্ত—এসবের ভিত্তিতেই একজন সাংবাদিকের কাজের মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
সত্যের পক্ষে সাংবাদিকতা—দায়িত্বও বড়
সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সামনে সত্য ও যাচাই করা তথ্য তুলে ধরা। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া, তথ্য যাচাই করা এবং মতামত ও সংবাদকে আলাদা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইলিয়াস হোসাইনকে নিয়েও তাই একই মানদণ্ড প্রযোজ্য। তাঁর অনুসারীরা তাঁকে সাহসী কণ্ঠ হিসেবে দেখেন, আবার তাঁর সমালোচকেরা তাঁর কিছু বক্তব্যের সত্যতা ও উপস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই দুই দৃষ্টিভঙ্গিই আলোচনায় রাখা প্রয়োজন।
সবশেষে প্রশ্ন থেকে যায়—সাংবাদিক ইলিয়াসের ‘অপরাধ’ কি সত্য বলা, নাকি সত্য বলার নামে বিতর্কিত তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ?
এর উত্তর আবেগ দিয়ে নয়, নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রমাণ ও আইনি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই খুঁজে বের করা উচিত।
নিউজ: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
