নিউজ সম্পাদক: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি | সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
বাংলাদেশের শহর, বন্দর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যানজট এখন জনজীবনের অন্যতম বড় সমস্যা। অপরিকল্পিত পার্কিং, ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো, রাস্তার ওপর যানবাহন রাখা এবং সড়কের চলাচলযোগ্য জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ার কারণে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি সেবার যানবাহনকে অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থাকতে হয়।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শুধু সাময়িক অভিযান চালিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। প্রয়োজন সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা, আইনের কঠোর প্রয়োগ, নিয়মিত তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি।
যানজট নিরসনে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি
১. প্রতিটি মার্কেটে নিজস্ব পার্কিংয়ের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হোক
নতুন মার্কেট, শপিং কমপ্লেক্স ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যমান মার্কেটগুলোর ক্ষেত্রেও আইন ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পার্কিং পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের যানবাহন রাখার জায়গা না থাকলে তার চাপ যেন কোনোভাবেই মূল সড়ক বা ফুটপাতের ওপর না পড়ে।
২. সরকারি রাস্তা ও ফুটপাতকে ব্যক্তিগত পার্কিং হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে
জনগণের চলাচলের জন্য নির্মিত রাস্তা ও ফুটপাত কোনো মার্কেট বা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত পার্কিংয়ের জায়গা নয়। যানবাহন রাখার কারণে সড়কের একাংশ বন্ধ হয়ে গেলে অন্য যানবাহনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং যানজট বাড়ে। তাই আইন অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান ছাড়া যত্রতত্র পার্কিং বন্ধে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. ফুটপাত ও মার্কেটের সামনের চলাচলের জায়গা দখল করে দোকান বসানো বন্ধ করতে হবে
ফুটপাত তৈরি করা হয়েছে পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য, দোকান বসানোর জন্য নয়। অথচ অনেক এলাকায় ফুটপাতের ওপর অস্থায়ী দোকান, পণ্যসামগ্রী ও বিভিন্ন স্থাপনা বসিয়ে মানুষের চলাচলের পথ সংকুচিত করা হচ্ছে। ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে চলাচল করেন। এতে যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষ, দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী মানুষ ও নারীদের জন্য এ পরিস্থিতি বাড়তি দুর্ভোগ সৃষ্টি করে।
৪. মার্কেট কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে
কোনো মার্কেটের সামনে বা ফুটপাতের নির্ধারিত চলাচলের জায়গায় দোকান বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। মার্কেট কর্তৃপক্ষের অবহেলা, অনুমোদন বা প্রত্যক্ষ সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী বড় অঙ্কের জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে জরিমানা আরোপের ক্ষেত্রে দায়িত্ব ও অপরাধের প্রমাণ নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু মার্কেটের সামনে দোকান রয়েছে বলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালিককে দায়ী না করে প্রকৃত দায় নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে দোকানদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—যাঁর যে দায়িত্ব, তাঁকে সেই অনুযায়ী জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
৫. ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে
একদিন অভিযান চালিয়ে ফুটপাত পরিষ্কার করার পর কয়েক দিনের মধ্যেই আবার দখল হয়ে গেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তাই স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই স্থানে বারবার দখল হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

You missed