পাবনার সুজানগর উপজেলার দুলাই সরকারি ডাঃ জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে কলেজের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা উত্তোলন ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
কলেজ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, কলেজের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. গিয়াস কামাল তপনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে জনতা ব্যাংক দুলাই শাখায় থাকা কলেজের একাধিক হিসাব থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মজিদের দাবি, কলেজের ব্যাংক হিসাব পরিচালনার কাজে বিশ্বাসের ভিত্তিতে চেকবই অফিস সহকারীর কাছে রাখা হয়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন।
ঘটনাটি প্রথম নজরে আসে গত ১০ সেপ্টেম্বর। কলেজের প্রয়োজনীয় কাজে একটি হিসাব থেকে ২২ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলনের পর অধ্যক্ষের মোবাইল ফোনে টাকা ডেবিট হওয়ার বার্তা আসে। কিছুক্ষণ পর একই হিসাব থেকে আরও ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলনের বার্তা পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
এরপর অধ্যক্ষ ব্যাংকে গিয়ে হিসাবের লেনদেন সম্পর্কে খোঁজ নিলে বিভিন্ন সময়ে বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলনের তথ্য সামনে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব লেনদেনের সঙ্গে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করার বিষয়টি জড়িত।
এদিকে, এসব ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা। তাদের দাবি, বৈধভাবে কলেজের হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে অধ্যক্ষের মোবাইলে ডেবিট সংক্রান্ত বার্তা এলেও কথিত জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে একই ধরনের বার্তা পাওয়া যায়নি।
তবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি এখনো তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে জনতা ব্যাংক দুলাই শাখার ব্যবস্থাপক মো. মোজাম্মেল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে কলেজের হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের সুযোগ নেই। অভিযুক্ত অফিস সহকারী গিয়াস কামাল তপনও অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কলেজটির সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ডাঃ জহুরুল কামাল ডিগ্রি কলেজ দুলাই, সুজানগর, পাবনায় অবস্থিত এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হিসেবে প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মজিদের নাম উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা, অর্থের প্রকৃত পরিমাণ, ব্যাংক লেনদেনের সঙ্গে কারা জড়িত এবং আত্মসাতের অর্থ কোথায় গেছে—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কলেজের সরকারি অর্থের হিসাব-নিকাশ, ব্যাংক লেনদেনের নথি, চেক, স্বাক্ষর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি উঠেছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এবং কলেজের কথিত আত্মসাতের অর্থ কীভাবে উদ্ধার করা হবে—এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের।
নিউজ আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
