পাবনা প্রতিনিধি | সংযোগ বাংলা টিভি
পাবনার আতাইকুলা থানার মধুপুর গ্রামের সন্তান ওবায়দুল্লাহ তারেক—ইসলামী সংস্কৃতি ও সংগীতাঙ্গনে পরিচিত একটি নাম। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে যেমন তিনি শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তেমনি গীতিকার, সুরকার, সংগীতজ্ঞ ও সংগীত প্রশিক্ষক হিসেবেও রেখেছেন নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়।
প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, ওবায়দুল্লাহ তারেকের জন্ম ১ মার্চ ১৯৮৭ সালে পাবনা জেলায়। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি আগ্রহ নিয়ে তাঁর পথচলা শুরু হয় এবং ২০০৬ সালে ‘মাওলা তোমারো লাগিয়া’ অ্যালবামের মাধ্যমে তাঁর পেশাদার সংগীতজীবনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ইসলামী সংগীতের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গানেও তাঁর কাজের পরিচয় পাওয়া যায়।
গায়ক থেকে গীতিকার ও সুরকার
ওবায়দুল্লাহ তারেক শুধু গান পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। বিভিন্ন গানে তাঁকে সুরকার ও শিল্পী হিসেবে পাওয়া যায়। যেমন—‘কতটুকু জানি তার’, ‘একদিন আমি থাকবোনা’, ‘আমায় সৃষ্টি করেছো প্রভু’ এবং ‘কখন জানি যাবো চলে’—এসব গানে তিনি সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন।
এ ছাড়া ‘লাব্বাঈক আল্লাহুম্মা লাব্বাঈক’ গানটির কথা ও সুর—দুটিই তাঁর নিজের বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। একইভাবে ‘মন যে আমার অথৈ নদী’ এবং ‘সব আশা হয়না পূরণ’ গানেও তিনি সুর দিয়েছেন।
তবে সব গান যে তিনি নিজেই লিখেছেন—এমনটি নয়। উদাহরণ হিসেবে ‘কর্জে হাসানা’ গানে কথা লিখেছেন শাহজাহান সানু, আর সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন ওবায়দুল্লাহ তারেক। ‘প্রতিদিন প্রতিক্ষণ’ গানেও কথা লিখেছেন চৌধুরী গোলাম মাওলা এবং সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন তারেক।
কতটি গান গেয়েছেন?
ওবায়দুল্লাহ তারেকের মোট গাওয়া, লেখা ও সুর করা গানের নির্ভুল সংখ্যা বর্তমানে উন্মুক্ত নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাঁর অফিসিয়াল শিল্পী প্ল্যাটফর্মে একাধিক গান, অ্যালবাম ও ভিডিও তালিকাভুক্ত রয়েছে। তাঁর নিজস্ব শিল্পী পেজে ‘জীবনে চলার পথে’সহ বিভিন্ন গান এবং ভিডিওর তথ্য পাওয়া যায়।
এদিকে তাঁর অফিসিয়াল ইউটিউব শিল্পী চ্যানেলেও বিপুলসংখ্যক কনটেন্ট রয়েছে; তৃতীয় পক্ষের চ্যানেল-পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেখানে শত শত ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। তবে ভিডিওর সংখ্যা আর তাঁর নিজের গাওয়া বা লেখা গানের সংখ্যা এক নয়, তাই সেটিকে সরাসরি মোট গানের সংখ্যা হিসেবে ধরা ঠিক হবে না।
সংগীত শিক্ষাতেও অবদান
শিল্পী হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি তিনি ইসলামী সংগীত শেখানোর সঙ্গেও যুক্ত। বিভিন্ন অনলাইন সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁকে ইসলামী সংগীতের শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নিজস্ব একাডেমিতেও ইসলামী সংগীতের লাইভ ক্লাস ও কোর্স পরিচালনার তথ্য রয়েছে।
সারেগামার তথ্য অনুযায়ী, তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে লোকসাহিত্য ও সংগীত বিষয়ে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং পিএইচডি গবেষণা চলমান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সূত্রে তাঁকে গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী, শিক্ষাবিদ ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দেশের গণ্ডি পেরিয়েও পরিচিতি
শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক আয়োজনেও অংশ নেওয়ার তথ্য তাঁর জীবনীতে রয়েছে। সারেগামার প্রোফাইলে অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার ও ভারতের বিভিন্ন আয়োজনে অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের একটি স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনেও পাবনার চাটমোহরে ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
মধুপুর থেকে জাতীয় পর্যায়ে
পাবনার আতাইকুলার মধুপুর গ্রামের এই শিল্পীর পথচলা তাই শুধু একজন গায়কের গল্প নয়; এটি একজন কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকার ও সংগীতশিক্ষকের দীর্ঘ সাধনার গল্প।
ইসলামী মূল্যবোধ, আত্মশুদ্ধি, মানবিকতা ও আধ্যাত্মিকতার নানা বার্তা তাঁর গানের বিষয়বস্তুতে উঠে এসেছে। তাঁর কণ্ঠে প্রকাশিত গান বিভিন্ন টেলিভিশন, ইউটিউব ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে।
এক কথায়—পাবনার মধুপুরের সন্তান ওবায়দুল্লাহ তারেক আজ ইসলামী সংগীতাঙ্গনে নিজের কাজের মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।
তথ্যসূত্র: শিল্পীর নিজস্ব ওয়েবসাইট ও একাডেমি, সারেগামা, সাউন্ডক্লাউড, কালচারাল টাইমস এবং প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন।
নোট: মোট গান, মোট লেখা ও মোট সুর করা গানের নির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করার মতো পূর্ণাঙ্গ অফিসিয়াল তালিকা পাওয়া না যাওয়ায় প্রতিবেদনে কোনো অনুমানভিত্তিক সংখ্যা ব্যবহার করা হয়নি।

You missed