নিজস্ব প্রতিবেদক: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংসদ বাংলা নিউজ ডট কম
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে?
বাংলাদেশে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ভোটার হিসেবে থাকছেন জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।
নির্বাচনটি হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সৃষ্ট শূন্যতা পূরণের জন্য। তিনি ২৪ জুলাই ২০২৬ পদত্যাগ করেন। এরপর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত।
কেন ২০ আগস্টের মধ্যে নির্বাচন?
এখানে সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতি মারা গেলে, পদত্যাগ করলে বা অপসারিত হলে তাঁর পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে ২৪ জুলাই পদত্যাগের পর ৯০ দিনের সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এবং সংবিধানের বিধান অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের নির্বাচন কর্মকর্তা/রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচিত হন?
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচন পরিচালনা করে। সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী—
প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে;
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে;
সংবিধানের অধীনে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত ব্যক্তি হওয়া যাবে না।
মনোনয়নপত্রে সংসদ সদস্যের প্রস্তাব ও সমর্থন প্রয়োজন।
এবার নির্বাচনটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়েছে। এবার একাধিক প্রার্থী থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপিও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।
ভোট হবে কীভাবে?
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যরা সংসদ কক্ষে ভোট দেবেন। ভোটগ্রহণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যে ভোট গণনা করে ফল ঘোষণা করবেন। একমাত্র একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। সমসংখ্যক ভোট হলে আইন অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।
মনোনয়ন ও ভোটের সময়সূচি
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী—
১৩ আগস্ট: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা
১৬ আগস্ট: সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র বাছাই
১৮ আগস্ট: বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার
২০ আগস্ট: দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ
সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারবেন কি?
এ প্রশ্নটি এবার বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপও সম্প্রতি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধিত না হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও এটি কার্যকর থাকবে এবং সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার বিষয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনগত আলোচনা রয়েছে।
সার্বিক পর্যবেক্ষণ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি শুধু একজন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নয়; বরং সংবিধান, সংসদীয় গণতন্ত্র, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার এবং রাজনৈতিক দলীয় শৃঙ্খলা—সবকিছুর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
আইনের দৃষ্টিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণ করতেই নির্বাচন কমিশন ২০ আগস্ট ২০২৬ ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছে।
অতএব, বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৬। একাধিক প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে জাতীয় সংসদ কক্ষেই সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান, নির্বাচন কমিশন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন-১৯৯১ এবং সাম্প্রতিক নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন।

You missed