পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা জেলা কারাগারে বাবু খান (৫৪) নামে এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভর্তি রেজিস্টারে তাঁকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মৃত বাবু খান পাবনা পৌর শহরের লস্করপুর এলাকার মরহুম সেকেন্দার আলী খানের ছেলে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে একটি মাদক মামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি পাবনা জেলা কারাগারে কয়েদি হিসেবে আটক ছিলেন। তাঁর কয়েদি নম্বর ছিল ৩৯১৯/এ।
পাবনা জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. ওমর ফারুক জানান, সোমবার ভোরে কারাগারে থাকা অবস্থায় বাবু খান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পাবনা জেলা কারাগারের সরকারি ওয়েবসাইটেও মো. ওমর ফারুককে জেল সুপার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভর্তি রেজিস্টার অনুযায়ী, বাবু খানকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে ঠিক কখন এবং কোথায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও হাসপাতালের রেকর্ডের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
এ ঘটনায় পাবনা জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. ওমর ফারুক বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। মামলাটির নম্বর ৯১/২৬, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাবু খানের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তাই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ বা কোনো পক্ষের দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টির প্রকৃত কারণ পরিষ্কার হবে।
নিউজ আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
