নিউজ: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
যোগাযোগ: 01727034690
একই স্থানে পাশাপাশি রাখা দুটি চিনির বস্তা। একটিতে লাল চিনি, অন্যটিতে সাদা চিনি। আশ্চর্যের বিষয়, লাল চিনির বস্তায় পিঁপড়া ও মাছির উপস্থিতি চোখে পড়ছে, অথচ সাদা চিনির বস্তায় মাছি বসলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই উড়ে যাচ্ছে। এমন দৃশ্য অনেকের কাছেই কৌতূহলের বিষয়। তবে এর পেছনে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত কারণ থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লাল চিনিতে যদি আখের প্রাকৃতিক গুড়ের অংশ (মোলাসেস) কিছুটা থেকে যায়, তাহলে এর গন্ধ ও আর্দ্রতা পিঁপড়া এবং মাছিকে বেশি আকৃষ্ট করতে পারে। অপরদিকে, পরিশোধিত সাদা চিনিতে সাধারণত এমন গন্ধ বা জৈব উপাদান কম থাকায় পোকামাকড়ের আকর্ষণও কম হতে পারে।
এছাড়া লাল চিনিতে যদি সামান্য আর্দ্রতা থাকে বা সংরক্ষণের সময় বাতাসের আর্দ্রতা শোষণ করে, তাহলে তা মাছি ও পিঁপড়ার জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। অন্যদিকে শুকনো ও পরিষ্কার সাদা চিনি তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
আরেকটি সম্ভাবনা হলো সংরক্ষণের পার্থক্য। কোনো বস্তায় আগে মিষ্টি সিরাপ, গুড় বা অন্য খাদ্যদ্রব্যের সংস্পর্শ থাকলে তার গন্ধ দীর্ঘদিন থাকতে পারে, যা পোকামাকড়কে আকৃষ্ট করে।
তবে শুধু মাছি বা পিঁপড়া বসছে কি না, সেটিকে চিনির মান নির্ধারণের একমাত্র উপায় হিসেবে ধরা ঠিক নয়। কোনো চিনি ভেজাল কি না বা নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে পরীক্ষাগারে রাসায়নিক বিশ্লেষণই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, বাজার থেকে চিনি কেনার সময় রং দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিশ্বস্ত উৎস থেকে কেনা, শুকনো স্থানে সংরক্ষণ করা এবং অস্বাভাবিক গন্ধ বা আর্দ্রতা থাকলে সতর্ক হওয়া উচিত।
সচেতনতার বার্তা:
লাল চিনিতে পিঁপড়া বা মাছির উপস্থিতি মানেই চিনি খারাপ—এমন নয়। আবার সাদা চিনিতে মাছি না বসলেই সেটি শতভাগ বিশুদ্ধ—এমন ধারণাও সঠিক নয়। প্রকৃত কারণ জানতে হলে সংরক্ষণ পদ্ধতি, আর্দ্রতা, গন্ধ, উৎপাদন ও পরিশোধন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনে পরীক্ষাগারের রিপোর্ট বিবেচনা করা উচিত।

You missed