সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ‘মোট ১৩০ ফরজ জেনে রাখুন’ শিরোনামে একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে অজু, গোসল, তায়াম্মুম, ঈমান, কালিমা ও নামাজসহ বিভিন্ন বিষয়ের ফরজের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইসলামি বিধান সম্পর্কে সচেতন থাকার জন্য এ ধরনের তালিকা দেখলে এর উৎস ও ফিকহি ভিত্তি যাচাই করা জরুরি।
অজুর ফরজ ৪টি
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী অজুর ফরজ চারটি—
১. সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল ধৌত করা।
২. দুই হাত কনুইসহ ধৌত করা।
৩. মাথার এক-চতুর্থাংশ মাসেহ করা।
৪. দুই পা টাখনুসহ ধৌত করা।
কোরআনের সূরা আল-মায়িদার ৬ নম্বর আয়াতে অজুর মৌলিক বিধান উল্লেখ রয়েছে।
গোসলের ফরজ ৩টি
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী গোসলের ফরজ—
১. কুলি করা।
২. নাকে পানি দেওয়া।
৩. পুরো শরীরে পানি পৌঁছানো।
অর্থাৎ শরীরের কোনো অংশ শুকনো না থাকে—এ বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
তায়াম্মুমের ফরজ
হানাফি ফিকহের প্রচলিত শিক্ষামতে তায়াম্মুমের ফরজ তিনটি—
১. নিয়ত করা।
২. পুরো মুখমণ্ডল মাসেহ করা।
৩. দুই হাত কনুইসহ মাসেহ করা।
তবে তায়াম্মুমের ফরজের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন ফিকহি মতামত রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট মাযহাবের মাসআলা অনুসরণ করলে সেই মাযহাবের নির্ভরযোগ্য আলেমের ব্যাখ্যা গ্রহণ করা উত্তম।
ঈমানের মৌলিক বিষয়
ঈমানের মৌলিক বিষয় হিসেবে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, নবী-রাসুল, আখিরাত এবং তাকদিরের প্রতি বিশ্বাসের কথা ইসলামী শিক্ষায় উল্লেখ করা হয়। ঈমানের ‘শাখা’ আবার অনেক বেশি—হাদিসের আলোচনায় ঈমানের ৭৭টি শাখার কথাও পাওয়া যায়। তাই ‘ঈমানের ৭টি’ এবং ‘ঈমানের ৭৭টি শাখা’—দুটিকে একই বিষয় মনে করা ঠিক নয়।
নামাজের ফরজ
হানাফি ফিকহের প্রচলিত শিক্ষায় নামাজের ভেতরের ফরজ সাতটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়—
১. তাকবিরে তাহরিমা
২. কিয়াম
৩. কিরাত
৪. রুকু
৫. সিজদা
৬. শেষ বৈঠক বা কায়দায়ে আখিরা
৭. সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ করা
এ ছাড়া নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য সময়, পবিত্রতা, সতর ঢাকা, কিবলামুখী হওয়া ও নিয়তের মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ফিকহি গ্রন্থে এগুলোকে শর্ত বা ফরজের বিভিন্ন শ্রেণিবিন্যাসে আলোচনা করা হয়েছে।
তাহলে ‘মোট ৩০ ফরজ’ কি একটি নির্দিষ্ট শরিয়তি তালিকা?
এখানেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ‘ইসলামে মোট ৩০টি ফরজ’—এভাবে একটি সর্বসম্মত, স্বতন্ত্র শরিয়তি তালিকা নির্ধারিত আছে—এ কথা বলা সঠিক নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত বিভিন্ন তালিকায় অজুর ফরজ, গোসলের ফরজ, তায়াম্মুমের ফরজ, ঈমানের বিষয়, নামাজের ফরজ, নামাজের শর্ত ইত্যাদি একসঙ্গে যোগ করে বিভিন্ন সংখ্যা তৈরি করা হয়। কিন্তু এগুলো একই শ্রেণির ফরজ নয় এবং সব তালিকা সব মাযহাব বা আলেমের কাছে একইভাবে গ্রহণযোগ্যও নয়।
বিশেষ করে কোনো ছবিতে ‘মোট ১৩০ ফরজ’ বা অন্য কোনো সংখ্যা লেখা থাকলে সেটিকে সরাসরি কোরআন-হাদিসে নির্ধারিত ‘মোট ফরজের সংখ্যা’ হিসেবে প্রচার না করাই সতর্কতার দাবি।
মুসলমানদের করণীয়
ইসলামের ফরজ বিধান শেখার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাইরাল পোস্টের ওপর নির্ভর না করে কোরআন, সহিহ হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য ফিকহের গ্রন্থ থেকে জ্ঞান অর্জন করা উচিত। কোনো নির্দিষ্ট মাসআলায় মতভেদ থাকলে যোগ্য আলেম বা মুফতির কাছ থেকে বিষয়টি জেনে নেওয়া উত্তম।
সুতরাং, ‘৩০ ফরজ’ কথাটি শুনেই সেটিকে চূড়ান্ত শরিয়তি সংখ্যা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। বরং কোন ফরজ কোন ইবাদতের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং কোন ফিকহি মত অনুযায়ী তা বলা হচ্ছে—সেটি যাচাই করাই হবে দায়িত্বশীলতার পরিচয়।
নিউজ: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
