নিউজ: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
পাবনা: পাবনা জেলার ইতিহাসে আজিম চৌধুরী একটি স্মরণীয় নাম। জমিদার হিসেবে তাঁর খ্যাতির পাশাপাশি পরোপকার, স্থাপত্য নির্মাণ এবং তাঁকে ঘিরে প্রচলিত নানা কিংবদন্তি আজও মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। বিশেষ করে সুজানগর উপজেলার দুলাই এলাকার ঐতিহাসিক আজিম চৌধুরীর জমিদারবাড়ি এখনো অতীতের গৌরবময় ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, তাঁর প্রকৃত নাম ফখরউদ্দিন আহলে আহসান আজিম চৌধুরী। তিনি আজিম উদ্দিন চৌধুরী নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর পূর্বপুরুষরা মধ্য এশিয়ার সমরখন্দ থেকে এসে পাবনায় বসতি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তাঁর দাদা শরফউদ্দিন সরকার সুজানগরের দুলাই এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
আজিম চৌধুরীর বাবা রহিমুদ্দিন মুন্সি ছিলেন আরবি ও ফারসি ভাষায় সুপণ্ডিত। নাটোর রাজের প্রশাসনিক দপ্তরে কাজ করার সুবাদে তিনি ‘মুন্সি’ উপাধি লাভ করেন এবং পরবর্তীতে নিলামে সম্পত্তি কিনে জমিদারি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি গড়ে তোলেন।
বাবার প্রতিষ্ঠিত জমিদারিকে আজিম চৌধুরী আরও বিস্তৃত করেন। তাঁর সময়ে দুলাই এলাকায় কয়েকটি নীলকুঠি প্রতিষ্ঠিত হয়, যা জমিদারির আয় বৃদ্ধি করে এবং তাঁকে সে সময়ের অন্যতম ধনী জমিদারে পরিণত করে।
নিজের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি দুলাইয়ে একটি বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন জমিদার প্রাসাদ নির্মাণ করেন। লাল ইটের তৈরি এই প্রাসাদে ছিল নান্দনিক খিলান, প্রশস্ত বারান্দা, দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলী এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বর্তমানে ভবনটির অনেকাংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও এটি এখনো ইতিহাসপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন।
আজিম চৌধুরীকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা কিংবদন্তিও প্রচলিত রয়েছে। অনেকে বিশ্বাস করেন, জমিদারবাড়ির নিচে গোপন সুড়ঙ্গ, গুপ্তধন এবং রহস্যময় কক্ষ ছিল। যদিও এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও লোককথার অংশ হিসেবে এগুলো আজও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
স্থানীয়দের মতে, আজিম চৌধুরী ছিলেন একজন দানশীল ও জনহিতৈষী ব্যক্তি। শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে তাঁর অবদানের কথা এখনো শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
বর্তমানে দুলাইয়ের ঐতিহাসিক জমিদারবাড়িটি যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার পথে। ইতিহাসবিদ ও সচেতন মহলের দাবি, এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হলে এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
সংযোগ বাংলা টিভির পক্ষ থেকে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হচ্ছে।

You missed