সরু সড়ক, ফুটপাত দখল ও যত্রতত্র পার্কিংয়ে নাকাল পথচারী-যাত্রী; কার্যকর ব্যবস্থার দাবি
পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনার আতাইকুলায় দীর্ঘদিন ধরে যানজটের সমস্যা ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহনের চলাচল থাকলেও সড়কের ধারণক্ষমতার তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি হওয়ায় ব্যস্ত সময়ে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী, পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আতাইকুলা বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের সড়ক তুলনামূলক সরু। এর ওপর সড়কের পাশে দোকানপাট, ফুটপাত ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা, অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং এবং নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠানামার কারণে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আতাইকুলা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাশাপাশি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে বড় হাট বসায় ওই সময় এলাকায় মানুষের সমাগম ও যানবাহনের চাপ আরও বেড়ে যায়। ফলে হাটের দিনগুলোতে যানজটের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি প্রকট হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশে যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করানো, বাসের অনিয়মিত যাত্রী ওঠানামা এবং সড়কের জায়গা বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের কারণে যান চলাচলের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও রাস্তার দুই পাশে যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, সড়কে অবৈধ চাঁদাবাজি বা বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম থাকলে তা যান চলাচলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, আতাইকুলায় আইনশৃঙ্খলা ও মহাসড়ক ব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকার পরও যানজট নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ও সমন্বিত ব্যবস্থা কেন দৃশ্যমান হচ্ছে না। তাদের মতে, শুধু সাময়িকভাবে যান চলাচল স্বাভাবিক না করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
সমাধানে যা প্রয়োজন
স্থানীয়দের দাবি, নির্দিষ্ট বাসস্টপেজ ছাড়া মহাসড়কে বাস দাঁড়ানো বন্ধ করা, ফুটপাত ও সড়কের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, যত্রতত্র পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, হাটের দিন বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত প্রশাসনিক ও হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
একই সঙ্গে ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, পথচারী ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণেরও দাবি উঠেছে।
আতাইকুলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করা শুধু জনদুর্ভোগ কমানোর বিষয় নয়; এটি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত।
তাই যানজটের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে তথ্যভিত্তিকভাবে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিউজ: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
