পাবনা প্রতিনিধি: আব্দুস শুকুর
পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নে প্রস্তাবিত মিনি স্টেডিয়ামের স্থান নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি অর্থে প্রায় ৮ বিঘা জমির ওপর গুরুত্বপূর্ণ এই ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইউনিয়নের সব এলাকার মানুষের সমান সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যে স্থানটি প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি ইউনিয়নের এক প্রান্তে হওয়ায় আতাইকুলার অধিকাংশ গ্রামের মানুষ নিয়মিতভাবে সেখানে যাতায়াত ও স্টেডিয়াম ব্যবহারে ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে ইউনিয়নের মাঝামাঝি ও যোগাযোগ সুবিধাজনক কোনো স্থানে স্থাপনাটি নির্মাণ করা হলে ২৩টি গ্রামের মানুষ তুলনামূলকভাবে সমানভাবে এর সুবিধা ভোগ করতে পারবেন বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকার যখন জনগণের কল্যাণে কোটি টাকা ব্যয়ে একটি স্থায়ী ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে, তখন সেই স্থাপনার স্থান কি একজন বা একটি এলাকার সুবিধা বিবেচনা করে নির্ধারণ করা উচিত? নাকি ইউনিয়নের সামগ্রিক জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ২৩টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত?
আতাইকুলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে শেখ মোহাম্মদ নবীর উদ্দিন পাবনা জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করে প্রস্তাবিত স্থান পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। আবেদনে বলা হয়েছে, মিনি স্টেডিয়ামটি এমন স্থানে নির্মাণ করা প্রয়োজন, যেখানে ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রান্তের শিশু-কিশোর, তরুণ, ক্রীড়াবিদ এবং সাধারণ মানুষ সহজে পৌঁছাতে পারেন।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বিষয়টি কোনো ব্যক্তি, চেয়ারম্যান বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অবস্থান নয়। বরং সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যেন দীর্ঘমেয়াদে সর্বাধিক মানুষের কাজে আসে—এটাই তাদের মূল দাবি।
তবে জনসাধারণের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ইতোমধ্যে সামনে এসেছে—২৩টি গ্রামের জন্য পরিকল্পিত একটি সরকারি স্থাপনার সুবিধা যদি বাস্তবে একটি নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের জন্য বেশি সহজলভ্য হয়, তাহলে বাকি গ্রামগুলোর মানুষ কেন বঞ্চিত হবে?
আবেদনকারীদের দাবি, প্রস্তাবিত স্থান চূড়ান্ত করার আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিন পরিদর্শন করা হোক। পাশাপাশি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের মতামত, ইউপি সদস্য, স্থানীয় ক্রীড়াবিদ, শিক্ষক, সামাজিক প্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণের বক্তব্য নেওয়া হোক।
তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—প্রস্তাবিত স্থান পুনর্বিবেচনা, ইউনিয়নের মাঝামাঝি ও যোগাযোগ সুবিধাজনক স্থানে বিকল্প জায়গা নির্ধারণ, সরেজমিন তদন্ত, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত গ্রহণ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা বা গণশুনানির আয়োজন।
স্থানীয়দের বক্তব্য, সরকারি প্রকল্প কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; এটি জনগণের সম্পদ। তাই জনগণের অর্থে নির্মিত মিনি স্টেডিয়ামের সুবিধাও হতে হবে জনগণের জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত ও সহজলভ্য।
তারা আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট গ্রামের সুবিধার কথা বিবেচনা করে যদি ইউনিয়নের অন্য ২২টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘমেয়াদি অসুবিধা সৃষ্টি হয়, তাহলে সেটি কখনোই সুষম উন্নয়নের উদাহরণ হতে পারে না। প্রশাসনের উচিত কোনো পক্ষের প্রভাব, চাপ কিংবা সুপারিশের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।
এ অবস্থায় আতাইকুলার ২৩টি গ্রামের মানুষের প্রশ্ন—উন্নয়ন কি সবার জন্য, নাকি শুধু নির্দিষ্ট একটি এলাকার জন্য?
জনসাধারণের দাবি, কোনো অবস্থাতেই তড়িঘড়ি করে স্থান চূড়ান্ত না করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে এমন একটি স্থান নির্বাচন করতে হবে, যেখানে ইউনিয়নের সর্বাধিক মানুষ সহজে যাতায়াত করতে পারবেন এবং মিনি স্টেডিয়ামটি সত্যিকার অর্থে ২৩টি গ্রামের ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
আতাইকুলা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দাবি উঠেছে—জনগণের মতামত উপেক্ষা নয়, বরং জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।
নিউজ: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
যোগাযোগ: ০১৭২৭০৩৪৬৯০

You missed