পাবনার ঈশ্বরদীতে মেহেদী হাসান আকিবের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সাংবাদিক সৌরভ কুমার দেবনাথ কৃষ্ণকে আসামি করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদসভা করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সভা থেকে মামলার এজাহার থেকে সৌরভের নাম প্রত্যাহারের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়। দাবি পূরণ না হলে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন সাংবাদিকরা।
সাংবাদিক নেতাদের অভিযোগ, সৌরভ স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে বালুমহাল, বালু উত্তোলন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছিলেন। এসব প্রতিবেদনের কারণে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল এবং সেই বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়ে থাকতে পারে বলে তারা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর সাঁড়া ইউনিয়নের মাজদিয়া ইসলামপাড়া গ্রামের আনিসুর রহমান বাদী হয়ে মেহেদী হাসান আকিবের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করেন। ওই মামলায় সাংবাদিক সৌরভ কুমার দেবনাথ কৃষ্ণসহ মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ১ সেপ্টেম্বর রাতে আকিব নিখোঁজ হন। পরদিন তাকে অসুস্থ অবস্থায় ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে লালপুর এলাকায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রাথমিক সংবাদগুলোতে পুলিশ ও পরিবারের পক্ষ থেকে তখনও কারা তাকে মারধর করেছে বা ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ কী—তা নিশ্চিত করা হয়নি।
পরবর্তী সময়ে মামলায় সাংবাদিক সৌরভের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় তার তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত। একই সঙ্গে হত্যা মামলার মতো গুরুতর ঘটনায় কারও নাম অন্তর্ভুক্তির পেছনে কী ধরনের তথ্য বা প্রমাণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তারা।
সভায় সাংবাদিক নেতারা আরও বলেন, মামলায় আসামি হওয়া মানেই কোনো ব্যক্তি অপরাধী প্রমাণিত হয়েছেন—এমন নয়। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তারা সাংবাদিক সৌরভের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
প্রতিবাদ সভায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মান্নান টিপুসহ প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা বক্তব্য দেন। তারা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মামলায় সৌরভের নাম কীভাবে যুক্ত হয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান।
এদিকে, মেহেদী হাসান আকিবের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত—তা নির্ধারণে আইনগত তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের অভিযোগ ও মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ—উভয় বিষয়ই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন।
নিউজ আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
