দালালচক্র ও কমিশন সংস্কৃতি—বাড়ছে নজরদারির দাবি
প্রতিবেদন: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি | সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
পাবনায় সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করে আসছেন অনেক ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজন। বিশেষ করে কিছু বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং কথিত দালালচক্রের কার্যক্রম নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা প্রতিটি ক্ষেত্রে তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অনেক রোগীর অভিযোগ, সাধারণ উপসর্গ নিয়েও কখনো কখনো অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ব্যয়বহুল চিকিৎসা বা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়। যদিও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোগ নির্ণয়ের জন্য অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে এবং তা রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কিছু হাসপাতাল ও ক্লিনিকের আশপাশে সক্রিয় দালালচক্র রোগীদের নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন সময় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রেসক্রিপশন পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রের ভিত্তিতে বিপণন কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায়। তবে এ ধরনের অভিযোগের সঙ্গে সব চিকিৎসক বা সব প্রতিষ্ঠান জড়িত—এমন দাবি করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নিয়মিত তদারকি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, দালালচক্র দমন এবং অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, স্বাস্থ্যখাতে কোনো ধরনের অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা, কমিশন বাণিজ্য বা দালালচক্রের অস্তিত্ব থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে সৎ ও নীতিবান চিকিৎসকদের সুনাম যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
(প্রতিবেদনটি জনসাধারণের অভিযোগ ও আলোচনার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যুক্ত হলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।)
