নেশার প্রথম ধাপ নয়, তবুও তামাকের আসক্তি বড় সতর্কবার্তা
বিড়ি হচ্ছে নেশার বাবা-মা—এমন বক্তব্যের মাধ্যমে সমাজে তামাক ও মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিড়ি ও সিগারেটের ধোঁয়ায় শুধু একজন মানুষের শরীরই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, পরোক্ষ ধূমপানের মাধ্যমে পরিবারের অন্য সদস্যরাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাকের নিকোটিন অত্যন্ত আসক্তিকর। অল্প বয়সে ধূমপানের অভ্যাস তৈরি হলে তা দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরশীলতার কারণ হতে পারে। তবে বিড়ি বা সিগারেট খাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে অন্যান্য মাদক গ্রহণ করবেন—এমন কোনো নিশ্চিত নিয়ম নেই। তামাক ব্যবহার ও অন্যান্য মাদক গ্রহণের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও একটিই অন্যটির সরাসরি কারণ, তা বলা যায় না।
কোন কোন নেশাদ্রব্য সমাজের জন্য উদ্বেগের?
মাদক ও আসক্তিকর দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে—
১. বিড়ি: তামাকজাত পণ্য, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করে এবং নিকোটিনের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি করতে পারে।
২. সিগারেট: ধূমপানের মাধ্যমে ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
৩. গাঁজা: এটি মস্তিষ্কের কার্যক্রম, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও মানসিক সুস্থতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
৪. ফেনসিডিল: অপব্যবহারে নির্ভরশীলতা, তন্দ্রা, শ্বাসপ্রশ্বাসের জটিলতা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
৫. বাবা বড়ি বা ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক বড়ি: এসব পদার্থের উপাদান ও মাত্রাভেদে হৃদ্‌যন্ত্র, মস্তিষ্ক, ঘুম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।
৬. মদ: অতিরিক্ত ও দীর্ঘমেয়াদি সেবনে লিভার, হৃদ্‌যন্ত্র ও মস্তিষ্কের ক্ষতি এবং আসক্তির ঝুঁকি বাড়ে।
এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও ক্ষতিকর নেশাজাতীয় পদার্থ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কেন তরুণদের সুরক্ষা জরুরি?
কৈশোর ও তরুণ বয়সে কৌতূহল, বন্ধুমহলের চাপ, পারিবারিক অবহেলা, মানসিক চাপ এবং মাদক সহজলভ্য হওয়ার মতো নানা কারণে কেউ কেউ তামাক বা অন্যান্য নেশাদ্রব্যের দিকে ঝুঁকতে পারেন। তাই শুধু শাস্তি বা ভয় দেখানো নয়; পরিবারে সুসম্পর্ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা, খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা ও পরামর্শসেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারের সঙ্গে ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের সম্পর্ক রয়েছে। তাই তামাকের ব্যবহার কমানো জনস্বাস্থ্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্রতিরোধে আমাদের করণীয়
শিশু-কিশোরদের সামনে ধূমপান না করা এবং তাদের তামাকের ক্ষতি সম্পর্কে বোঝানো।
অল্প বয়সে বিড়ি-সিগারেট ব্যবহারের প্রবণতা দেখা দিলে অবহেলা না করা।
বন্ধুমহলে মাদক গ্রহণের চাপ এলে তা প্রত্যাখ্যান করতে উৎসাহিত করা।
মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে অপমান বা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন না করে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সহায়তা করা।
মাদক বিক্রি বা পাচারের তথ্য জানা থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো।
আমাদের বার্তা
বিড়ি-সিগারেটকে হালকা অভ্যাস ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। তামাকের আসক্তি নিজেই একটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি। পাশাপাশি মাদকাসক্তি প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
আজকের সচেতনতা আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারে। আসুন, তামাক ও মাদকের ক্ষতি সম্পর্কে নিজেরা সচেতন হই, অন্যকে সচেতন করি এবং সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এগিয়ে আসি।
তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং তামাক ও অন্যান্য মাদক ব্যবহারের ওপর প্রকাশিত গবেষণা।
নিউজ: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম

You missed