পাবনা প্রতিনিধি: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
যোগাযোগ: ০১৭২৭০৩৪৬৯০
পাবনার আতাইকুলা থানার অন্তর্গত দুর্গাপুর মৌজার শিমুলচড়া গ্রামে ইছামতি নদীসংলগ্ন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্মশানঘাটের পাশে কৃষিজমিতে ফসল নষ্ট করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস সর্দারের অভিযোগ, তার হলুদ ও বেগুনের আবাদসহ জমির চারপাশে থাকা ধুন্দুলের ঘেরা একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এমনকি ফসলে বিষ প্রয়োগের চেষ্টারও অভিযোগ করেছেন তিনি।
কৃষকের অভিযোগ ও স্থানীয়দের বক্তব্য
কৃষক আব্দুল কুদ্দুস সর্দার, গ্রাম—শিমুলচড়া, পিতা—মৃত বাহাদুর সর্দার। তার দাবি, তিনি একজন অপেক্ষাকৃত দুর্বল কৃষক হওয়ায় তার আবাদ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ধুন্দুলের ঘেরা উপড়ে ফেলা এবং বিভিন্ন ফসল নষ্ট করার অভিযোগও করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন মানুষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও বক্তব্যে ভ্যানচালক বাবু ও তার ছেলে মোঃ রাসেলের নাম এ ঘটনায় উঠে এসেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে সাংবাদিকতার নীতি ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে উল্লেখ করা জরুরি—তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করা যায় না। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা অত্যন্ত জরুরি।
সরেজমিনে অনুসন্ধান
কৃষকের অভিযোগ পাওয়ার পর সংযোগ বাংলা টিভির অনুসন্ধানী টিম ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শন করে। কোনো পক্ষের বক্তব্যকে একতরফাভাবে সত্য ধরে না নিয়ে বিষয়টি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়।
পরবর্তীতে কৃষি বিভাগ ও সংযোগ বাংলা টিভির অনুসন্ধানী টিমের সমন্বয়ে ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং কৃষকের অভিযোগ ও জমির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
এ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন—
কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নুর ইসলাম হোসেন
কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ ফারজানা খাতুন
সংযোগ বাংলা টিভির সম্পাদক আব্দুস শুকুর
স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে আইনের প্রয়োগ জরুরি
সরেজমিন অনুসন্ধান এবং স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় বাবু ও তার ছেলে রাসেলের সম্পৃক্ততা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ও প্রশ্ন উঠে এসেছে। বিষয়টি যদি তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে কৃষকের ফসল নষ্ট করার মতো ঘটনায় আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
কারণ একজন কৃষকের জমির ফসল শুধু কয়েকটি গাছ নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তার শ্রম, অর্থ, পরিবারের জীবিকা এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশা।
তবে একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ, প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মামলা করতে ভয় কেন?
কৃষক আব্দুল কুদ্দুস সর্দার জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন। কিন্তু স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা অদৃশ্য চাপের কারণে তিনি মামলা করতে ভয় পাচ্ছেন কি না—এমন আশঙ্কার কথাও তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।
তবে এই ‘অদৃশ্য শক্তি’ কারা বা এর পেছনে কারও প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। তাই বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
কৃষি বিভাগের আশ্বাস
কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে আশ্বস্ত করেছেন যে, তার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষি বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বিষয়টি আরও পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা হবে।
সত্য উদঘাটনই হোক মূল লক্ষ্য
কোনো কৃষকের অভিযোগকে অযথা মিথ্যা বলে চাপা দেওয়া যেমন উচিত নয়, তেমনি তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়া কাউকে অপরাধী বলাও সমীচীন নয়।
প্রমাণ, প্রত্যক্ষ তথ্য, সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসতে হবে।
যদি সত্যিই কৃষকের ফসল নষ্ট করা হয়ে থাকে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন। আর যদি অভিযোগের কোনো অংশ অসত্য হয়, সেক্ষেত্রে নির্দোষ ব্যক্তির হয়রানি বন্ধ করাও সমান জরুরি।
কৃষকের ফসল রক্ষা, সত্য উদঘাটন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হোক এই অনুসন্ধানের মূল লক্ষ্য।
নিউজ: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
মোবাইল: ০১৭২৭০৩৪৬৯০
