নিউজ আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
বাংলার বাউল সাধক, দার্শনিক ও মানবতাবাদী চিন্তাবিদ ফকির লালন শাহ। তাঁর গান ও দর্শন আজও মানুষের মনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় অবস্থিত তাঁর আখড়া ও সমাধিস্থল দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে পরিচিত। তবে প্রশ্ন উঠেছে, লালন শাহের প্রকৃত জন্মস্থান কোথায় এবং তাঁর পিতার নাম কী?
জন্মস্থান নিয়ে তিনটি মত
ঐতিহাসিক তথ্য ও বিভিন্ন গবেষণামূলক সূত্র পর্যালোচনায় লালন শাহের জন্মস্থান সম্পর্কে প্রধানত তিনটি মত পাওয়া যায়।
প্রথম মত: কিছু গবেষক ও ঐতিহাসিক সূত্রের দাবি, লালন শাহ ১৭৭২ বা ১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
দ্বিতীয় মত: অন্য একটি মত অনুযায়ী, তিনি বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ভাড়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এই মতের সমর্থকেরা তাঁর পিতার নাম মাধব কর এবং মাতার নাম পদ্মাবতী বলে উল্লেখ করেন।
তৃতীয় মত: ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকার একটি প্রবন্ধে লালনের জন্মস্থান হিসেবে তৎকালীন যশোর জেলার ফুলবাড়ি গ্রামের কথা উল্লেখ করা হয়। এ মত অনুযায়ী, তাঁর পিতার নাম কাজী দরীবুল্লাহ দেওয়ান এবং মাতার নাম আমিনা খাতুন।
তবে এসব তথ্যের মধ্যে কোনটি চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত, তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। লালন নিজেও তাঁর জন্মস্থান ও পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য লিখিত বিবরণ রেখে যাননি। ফলে তাঁর জন্মস্থান ও বংশপরিচয় এখনো ঐতিহাসিক অনুসন্ধানের বিষয়।
তাহলে কুষ্টিয়ায় লালনের মাজার কেন?
লালন শাহের জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেটেছে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায়। এখানেই তিনি আখড়া গড়ে সাধনা, সংগীতচর্চা ও শিষ্যদের নিয়ে জীবন কাটিয়েছেন বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। ১৮৯০ সালে ছেউড়িয়াতেই তাঁর মৃত্যু হয়। বর্তমানে তাঁর সমাধিস্থলকে কেন্দ্র করে লালনভক্ত, গবেষক ও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে।
উপসংহার
লালন শাহের জন্মস্থান হরিশপুর, ভাড়ারা নাকি ফুলবাড়ি—এ প্রশ্নের এখনো সর্বসম্মত ও চূড়ান্ত উত্তর পাওয়া যায়নি। একইভাবে তাঁর পিতার নাম নিয়েও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক দাবি। তাই কোনো একটি মতকে অকাট্য সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করে প্রামাণ্য দলিল, পুরোনো পত্রিকা ও গবেষকদের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে বিষয়টি আরও যাচাই করা প্রয়োজন।
লালন শাহের জীবন ও দর্শন নিয়ে গবেষণা যত এগোবে, তাঁর জন্মপরিচয় সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে।
অপরাধ ও দুর্নীতি
অর্থনীতি
আইন আদালত
আন্তর্জাতিক
গণমাধ্যম
জাতীয়
ঢাকা
প্রবাসের খবর
ফেসবুক নিউজ
রাজনীতি
সর্বশেষ
সারাদেশ
