বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ঘিরে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মিয়ানমারের রাখাইনভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে বাংলাদেশি জেলেদের আটক ও অপহরণের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘সেন্টমার্টিন আমরা নিয়ে নেব’ বা ‘সেন্টমার্টিন আরাকানের’—এ ধরনের বক্তব্যকে এখনই মিয়ানমার রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক দখল-হুমকি হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। এসব বক্তব্যের স্বাধীন ও সরকারি যাচাই প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো অবশ্য পরিস্থিতির উদ্বেগজনক দিকটি সামনে এনেছে। ১৯ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশি ১৮ জনসহ মোট ২৪ জেলেকে আরাকান আর্মির কাছ থেকে ফেরত আনে বিজিবি। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে কয়েকজন ২০২৫ ও ২০২৬ সালে মাছ ধরতে গিয়ে ভুল করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশের পর আটক হয়েছিলেন।
ফেরত আসা এক জেলে দীর্ঘদিন আটক থাকার সময় নির্যাতন ও কঠিন পরিস্থিতির অভিযোগ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের দিয়ে দীর্ঘ সময় শ্রমের কাজ করানো হতো এবং অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।
এর আগেও সেন্টমার্টিনের আশপাশে বাংলাদেশি জেলেদের আটক করার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনটি মাছ ধরার নৌকা থেকে ১৮ বাংলাদেশি জেলেকে আরাকান আর্মি আটক করেছিল বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এ অবস্থায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—সেন্টমার্টিন কি দখলের ঝুঁকিতে?
বর্তমান প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে সেন্টমার্টিন দখলের কোনো নিশ্চিত সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। জেলেদের আটক, জলসীমায় সংঘর্ষের আশঙ্কা এবং হুমকিমূলক বক্তব্য অবশ্যই বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর বিষয়; কিন্তু এগুলোকে সরাসরি ‘যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে’ বা ‘সেন্টমার্টিন দখলের অভিযান’ হিসেবে ঘোষণা করা তথ্যভিত্তিক হবে না।
বাংলাদেশের জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সীমান্ত ও সমুদ্রসীমায় জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জলসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধ করা এবং আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুত ফিরিয়ে আনা। এ ক্ষেত্রে বিজিবি, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে জেলেদের জন্য নির্ধারিত নিরাপদ মাছ ধরার এলাকা, সমুদ্রসীমার সঠিক নির্দেশনা এবং জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্তে কোনো উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি হলে তা যেন বড় সংঘাতে রূপ না নেয়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।
সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের সার্বভৌম ভূখণ্ড। তাই দ্বীপটির নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো হুমকি বা অনুপ্রবেশের অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। তবে আতঙ্ক ছড়ানোর পরিবর্তে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি তুলে ধরাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পথ।
নিউজ: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
