নিজস্ব প্রতিবেদক | আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি | সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
পাবনার আতাইকুলা থানার অন্তর্গত বিভিন্ন এলাকায় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ ও সন্দেহ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ধান ও ভুট্টা ভাঙানোর ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম মজুরি নেওয়া কীভাবে সম্ভব হচ্ছে—এ নিয়ে স্থানীয় মিল মালিক, ভ্যানচালক ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, আতাইকুলা ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি রাইস মিল, অয়েল মিল, অটো চার্জিং গ্যারেজসহ বিভিন্ন বিদ্যুৎনির্ভর প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে বৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা করা কতটা লাভজনক—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কিছু ব্যবসায়ী।
একজন স্থানীয় মিল মালিকের দাবি, বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে পাবলিকের ধান ভাঙানোর জন্য প্রতি মণে প্রায় ৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে আশপাশের কিছু এলাকায় ২৫ টাকা মণে ধান এবং প্রায় ১০০ টাকা মণে ভুট্টা ভাঙানোর কথা শোনা যাচ্ছে। একই ধরনের বিদ্যুৎনির্ভর কাজে এতটা পার্থক্য কীভাবে হচ্ছে—এটাই তার মূল প্রশ্ন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি মূল্য তুলনামূলক কম থাকার সময়ও ধান ও ভুট্টা ভাঙানোর খরচ বেশি ছিল। বর্তমানে বিদ্যুতের দাম আরও বেশি হওয়ার পরও কোনো কোনো মিলে কম দামে কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত খরচ ও বিলের হিসাব যাচাই করার দাবি উঠেছে।
তবে কম দামে ধান বা ভুট্টা ভাঙানো মানেই বিদ্যুৎ চুরি হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। এর পেছনে যন্ত্রের দক্ষতা, উৎপাদনের পরিমাণ, ব্যবসায়িক খরচ, মালিকানাধীন বিদ্যুৎ সংযোগের ধরন, মেশিনের সক্ষমতা কিংবা অন্য কোনো বৈধ কারণও থাকতে পারে। তাই বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগের সরেজমিন তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই প্রয়োজন।
স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে বিদ্যুৎ চুরির সন্দেহজনকভাবে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন ওই মিল মালিক। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় আতাইকুলা এলাকার বিভিন্ন মিল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দিনের পাশাপাশি রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ, মিটার, লোড, বিদ্যুৎ বিল এবং প্রকৃত ব্যবহারের হিসাব যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের কেউ অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বা মিটার কারসাজির বিষয়ে তথ্য জানলে নিজের হাতে আইন তুলে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ ও প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে—কোনো এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে যদি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ বা আর্থিক ক্ষতি তৈরি হয়, তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী সাধারণ গ্রাহকদের ওপর পড়ছে কি না। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি রয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
নিউজ: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
যোগাযোগ: 01727034690

You missed