নিজস্ব প্রতিবেদক: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি | সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যু ও তাঁর জানাজাকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে যে আবেগ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা এখনও অনেকের মনে গভীরভাবে দাগ কেটে আছে। বিশেষ করে তাঁর জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি এবং শোকের পরিবেশের কথা স্মরণ করে অনেকে বলেন, কিছু ব্যক্তিত্বকে শুধু দলীয় পরিচয়ে নয়, বরং বৃহত্তর জাতীয় পরিসরে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সাঈদীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় পিরোজপুরে। তাঁর মৃত্যুর পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং শোক প্রকাশের নানা দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি ও ভিডিও নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এসব দৃশ্যে একজন মৃত ব্যক্তির ছবি বা প্রতিকৃতিতে জুতা দিয়ে আঘাত, লাথি কিংবা উল্লাসের মতো আচরণ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ছবিগুলো ও ভিডিওগুলোর উৎস, সময়, স্থান এবং সম্পাদিত কি না—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। যাচাই ছাড়া কাউকে কোনো গুরুতর ঘটনার সঙ্গে জড়িত করা সমীচীন নয়।
আল্লামা সাঈদীর রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসও এ আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বিভিন্ন অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়; পরবর্তীতে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাঁর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
সুতরাং সাঈদীকে নিয়ে আলোচনায় একদিকে যেমন তাঁর সমর্থকদের আবেগ ও রাজনৈতিক অবস্থানকে বিবেচনায় নিতে হবে, অন্যদিকে আদালতের রায় ও নথিভুক্ত ইতিহাসকেও উপেক্ষা করা যাবে না। কোনো ব্যক্তিকে নির্দোষ বা দোষী ঘোষণা করার চূড়ান্ত দাবি করতে হলে প্রমাণ ও নির্ভরযোগ্য নথির ওপর নির্ভর করাই সাংবাদিকতার দায়িত্ব।
একইভাবে, কোনো মৃত ব্যক্তির ছবি বা স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বিদ্বেষ, উপহাস কিংবা অবমাননাকর আচরণ সামাজিক সহনশীলতার জন্যও উদ্বেগের বিষয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে; কিন্তু মৃত্যুর পরও একজন মানুষের প্রতি ন্যূনতম মর্যাদা ও মানবিকতা বজায় রাখা উচিত—এমন মতও রয়েছে বিভিন্ন মহলে।
ইতিহাসের শিক্ষা হলো—সত্যকে দীর্ঘদিন আড়াল করে রাখা যায় না। কোনো অভিযোগ সত্য হলে তার পক্ষে প্রমাণ থাকতে হবে, আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া দরকার।
তাই সাঈদীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও নিয়ে আবেগের পরিবর্তে তথ্য যাচাই, নির্ভরযোগ্য উৎস এবং প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
কারণ বিচার ও ইতিহাস—দুটির ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সত্য ও প্রমাণ।
নিউজ: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম

You missed