নিজস্ব প্রতিবেদক | আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি | সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার খবর পেয়ে তিনি সীমান্তপথে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ভারতের একটি আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের আটক করা হয়। অভিযানে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল, কোতোয়ালি থানা পুলিশ এবং চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। পুলিশ বলছে, ইমন ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন।
সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের ঝিকরগাছা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পরিকল্পনা ছিল। এমনকি সীমান্তের ওপারে তাকে গ্রহণ করার জন্য একটি পক্ষ প্রস্তুত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, বুধবার ভোরে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই তিনি আটক হন।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিমুল হক জানিয়েছেন, ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের কয়েক দিন আগে যশোর সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছিলেন এবং গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে ছিলেন। পুনরায় ভারতে পালানোর চেষ্টা করার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আধার কার্ড ঘিরে রহস্য
ডেভিড ইমনের কাছ থেকে ভারতের একটি আধার কার্ড উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই কার্ডে ‘আজহার খান’ নাম এবং ১২ মে ১৯৯৮ জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে। তবে কার্ডটি সত্যিকার অর্থে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা নাকি জাল—এ বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
ভারতের Unique Identification Authority of India (UIDAI)-এর তথ্য অনুযায়ী, আধার হলো ১২ সংখ্যার একটি স্বতন্ত্র পরিচয় নম্বর, যা ভারতের বাসিন্দাদের পরিচয় যাচাইয়ে ব্যবহৃত হয়। আধার পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায় এবং এর তথ্য বায়োমেট্রিক ও অন্যান্য যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রমাণীকরণ করা সম্ভব। তবে আধার কার্ড নিজে কোনো ব্যক্তিকে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করে না।
এ কারণে ডেভিড ইমনের কাছে থাকা কার্ডটি যদি সত্যিই তার নামে বৈধভাবে ইস্যু হয়ে থাকে, সেটি কীভাবে এবং কোন পরিচয়ের ভিত্তিতে পাওয়া হয়েছিল—এ প্রশ্নও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। আর যদি কার্ডটি জাল হয়ে থাকে, তাহলে সেটি তৈরি বা সংগ্রহের পেছনে কারা জড়িত ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখার বিষয়।
দেশি-বিদেশি পাসপোর্টের তথ্য
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডেভিড ইমন পুলিশকে জানিয়েছেন, তার কাছে দেশি ও বিদেশি—দুটি পাসপোর্ট রয়েছে এবং তিনি বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করতেন। এ তথ্য তার সীমান্তপথে পালানোর পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য বিদেশি যোগাযোগের বিষয়টিকে তদন্তে আরও গুরুত্ব দিয়েছে।
অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও তদন্তে
গ্রেপ্তারের পর ডেভিড ইমনকে নিয়ে ফটিকছড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ফটিকছড়ি থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে।
একাধিক মামলার আসামি
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সাম্প্রতিক অপরাধ, হামলা, চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনায়ও তার নাম এসেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে ডেভিড ইমন চট্টগ্রামকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতেন। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচার ও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
তদন্তে এখন বড় প্রশ্ন
ডেভিড ইমনের কাছে থাকা আধার কার্ডটি আসল না জাল, ‘আজহার খান’ পরিচয়টি কীভাবে তৈরি হলো, কারা তাকে সীমান্ত পারাপারে সহায়তা করার কথা ছিল এবং তার দেশি-বিদেশি যোগাযোগের সঙ্গে অপরাধচক্রের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। ফলে আধার কার্ডকে ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্য এবং তার কথিত ভারতে পালানোর পরিকল্পনার বিষয়ে তদন্তের পরবর্তী ধাপই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজ: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
ছবি: সংগৃহীত

You missed