সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ এলাকায় জামায়াতের দুই নেতাকে ছুরিকাঘাত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কের পাশে সয়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
আহতরা হলেন সয়দাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির আব্দুস সবুর ও জামায়াতকর্মী নুরুন্নবী। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুরুতর আহত আব্দুস সবুরকে প্রথমে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, লংমার্চের গাড়িবহর যমুনা সেতু পার হয়ে সয়দাবাদ এলাকা অতিক্রম করার পর আব্দুস সবুর জোহরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হলে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় স্থানীয় বিএনপির কর্মী হাসান, আলামিন ও পারভেজ জড়িত ছিলেন বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, লংমার্চের আগে থেকেই হামলার আশঙ্কা ছিল এবং গাড়িবহর চলে যাওয়ার পর বিচ্ছিন্নভাবে লংমার্চে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
তবে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগটি অস্বীকার করা হয়েছে। সয়দাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকার দাবি করেন, ঘটনার সূত্রপাত জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির এক কর্মীর বিরোধকে কেন্দ্র করে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির কর্মী আল আমিনকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা মারধর করেছেন এবং পরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে আব্দুস সবুরের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এদিকে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় হামলার প্রকৃত কারণ, কারা হামলায় জড়িত এবং ঘটনার সূচনা কীভাবে—এসব বিষয় এখনো তদন্তসাপেক্ষ। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
নিউজ ঢাকা প্রতিনিধি
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
