রাজশাহীতে ইয়াবার নামে রং করা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ও ওষুধ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানভিত্তিক কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কম দামের কিছু সাধারণ ট্যাবলেটে লাল বা গোলাপি রং লাগিয়ে সেগুলো দেখতে ইয়াবার মতো করে মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে, ‘মায়াপিল’ বা ‘মায়াবড়ি’ নামে পরিচিত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এবং ‘ডুরালাক্স’ জাতীয় ওষুধে মার্কার বা সাইনপেনের কালি ব্যবহার করে ইয়াবার আদল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপর প্রকৃত ইয়াবা হিসেবে এসব ট্যাবলেট বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কোথাও কোথাও প্রতি পিস ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মায়াপিল কোনো মাদক নয়; এটি গর্ভনিরোধের জন্য ব্যবহৃত একটি যৌগিক জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ। ফলে এমন ওষুধে রং লাগিয়ে মাদক হিসেবে বিক্রি করা শুধু প্রতারণার অভিযোগই নয়, ভুলভাবে সেবনের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে মাদকসেবীরা অনেক সময় আইনি অভিযোগ করতে অনাগ্রহী হতে পারেন—ফলে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে তথ্য পাওয়া ও ব্যবস্থা নেওয়া আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। তবে এ বিষয়টি সাধারণীকরণ না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব ধরনের মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে রং করা মায়াবড়ি বা ডুরালাক্সকে ইয়াবা হিসেবে বিক্রির অভিযোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
এর আগে বাংলাদেশে নকল ইয়াবা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরীক্ষায় ভিন্ন উপাদানের ট্যাবলেট পাওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। তাই কোনো সন্দেহজনক ট্যাবলেটকে শুধু চেহারা বা রঙ দেখে ইয়াবা কিংবা অন্য কোনো মাদক হিসেবে নিশ্চিত করা উচিত নয়; প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে এর উপাদান নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি নকল বা ভেজাল মাদক তৈরির অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন—কারণ এতে একদিকে প্রতারণা, অন্যদিকে অজানা উপাদান সেবনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নিউজ আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
