ইলিশ—বাংলাদেশের মানুষের কাছে শুধু একটি মাছ নয়, অনেক পরিবারের কাছে এটি যেন একটি স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন সবার ঘরে পৌঁছায় না।
আজও দেশের অসংখ্য দরিদ্র ও অসহায় পরিবার আছে, যাদের ইলিশ কেনার সামর্থ্য নেই। বাজারে ইলিশের দিকে তাকিয়ে থাকেন, কিন্তু দামের হিসাব মেলাতে পারেন না। অথচ ঘরে ছোট ছোট সন্তান—তাদের আবদার, “ইলিশ মাছ খাব।”
একজন অসহায় বাবা কিংবা মা তখন কী করবেন?
সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বুকের ভেতরটা কেঁদে ওঠে। শত চেষ্টা করেও যখন ইলিশ কেনার সামর্থ্য হয় না, তখন সামর্থ্যের মধ্যে কিনে আনেন পুঁটি মাছ। ঘরে রান্না হয় সেই পুঁটি মাছ। ছোট ছোট সন্তানদের সামনে তুলে দেওয়া হয় ভালোবাসা দিয়ে।
শিশুরা হয়তো জানে না—এটা ইলিশ নয়। তারা শুধু জানে, বাবা-মা তাদের জন্য মাছ রান্না করেছেন। পেট ভরে খেয়ে তারা যখন হাসে, তখন সেই হাসিতেই একজন অসহায় অভিভাবকের সমস্ত কষ্ট কিছুটা যেন দূর হয়ে যায়।
এভাবেই অনেক দরিদ্র পরিবারের কাছে পুঁটি মাছই হয়ে ওঠে “গরিবের ইলিশ”।
কেউ কেউ বলেন, অন্য মাছেও পুষ্টি ও ভিটামিন রয়েছে। কথাটি সত্য হতে পারে। কিন্তু একজন অসহায় মানুষের কাছে প্রশ্নটা শুধু পুষ্টির নয়—প্রশ্নটা সামর্থ্যের, সন্তানের আবদার পূরণের এবং পরিবারের মুখে একটুখানি হাসি ফোটানোর।
পুঁটি মাছ খাওয়া শেষে পরিবারের সবাই যখন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলে—“আলহামদুলিল্লাহ”, তখন সেই ছোট্ট খাবারই হয়ে ওঠে অনেক বড় তৃপ্তি।
কারও ঘরে ইলিশের আয়োজন, আর কারও ঘরে পুঁটি মাছেই ঈদের আনন্দ—এই বৈষম্যের মাঝেও গরিব মানুষের ভালোবাসা আর ত্যাগই সবচেয়ে বড় সত্য।
গরিবের পুঁটি মাছেই যখন ইলিশের তৃপ্তি—সেটিই হয়তো জীবনের নির্মম বাস্তবতা।
নিউজ আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম

You missed