জিম্মিদশা থেকে পালিয়ে পুলিশের আশ্রয়, সরকারি তৎপরতায় দেশে ফিরলেন পাবনার যুবক
পাবনা প্রতিনিধি: আব্দুস শুকুর
দীর্ঘ প্রায় তিন মাস নিখোঁজ থাকার পর জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরেছেন পাবনার আতাইকুলা থানার আতাইকুলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও কবরস্থান সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. নাহিদ। তাকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দালালের মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ টাকা চুক্তিতে বিদেশে পাড়ি জমান নাহিদ। বিভিন্ন দেশ ও পথ পাড়ি দিয়ে একপর্যায়ে তিনি দুবাইয়ে পৌঁছান। সেখানে যাওয়ার পর নাহিদ জিম্মিদশায় পড়েছেন বলে পরিবারের কাছে খবর আসে।
এরপর নাহিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে মুক্ত করার কথা বলে অর্থ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা নাহিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। তার কণ্ঠ শুনে স্বজনরা নিশ্চিত হন, নাহিদ তখনও জীবিত রয়েছেন।
এরপর শুরু হয় নাহিদকে জীবিত উদ্ধারের জন্য পরিবারের দীর্ঘ ও কঠিন প্রচেষ্টা। পরিবারের দাবি, প্রায় তিন মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় অর্থ দেওয়া হলেও নাহিদকে মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ সময়ে সব মিলিয়ে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে পরিবারের পক্ষ থেকে পাবনা জেলার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য শেখ মো. নবীর উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর নাহিদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের মাধ্যমে তাকে জিম্মিদশা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে নাহিদ জিম্মিদের কাছ থেকে পালিয়ে পুলিশের কাছে আশ্রয় নেন। এরপর তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে শুরু হয় সরকারি ও প্রশাসনিক পর্যায়ে তৎপরতা।
নাহিদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে শেখ মো. নবীর উদ্দিনের উদ্যোগে প্রবাসী কল্যাণ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি তদারকির মাধ্যমে নাহিদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে নাহিদ এখন তার নিজ বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন।
দেশে ফেরার পর নাহিদের কাছ থেকে উঠে এসেছে নিখোঁজ থাকার সময়কার নানা দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা। পরিবারের দাবি, প্রায় তিন মাস তিনি চরম কষ্টের মধ্যে ছিলেন। এমনকি দীর্ঘ সময় গরম পানি ছাড়া অন্য কিছু খেতে পারতেন না। একপর্যায়ে তার গাল দিয়ে বারবার রক্ত বের হওয়ার কথাও পরিবারের সদস্যরা জানান।
দীর্ঘ এই সংকটের পর নাহিদকে জীবিত অবস্থায় মায়ের কাছে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত তার পরিবার। স্বজনরা মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন এবং নাহিদের দেশে ফেরার পেছনে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বিশেষ করে প্রবাসী কল্যাণ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর এবং শেখ মো. নবীর উদ্দিনের প্রচেষ্টার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে নাহিদের পরিবার। তাদের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় নাহিদকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নাহিদের পরিবারের পক্ষ থেকে নুরুল হক নূর ও শেখ মো. নবীর উদ্দিনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও দোয়া প্রকাশ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে দালালচক্রের প্রলোভন ও প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পরিবার। বিদেশ যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রক্রিয়া, বৈধ কাগজপত্র ও নিয়োগদাতা সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
নিউজ: আব্দুস শুকুর
সংযোগ বাংলা টিভি
সংযোগ বাংলা নিউজ ডট কম
মোবাইল: ০১৭২৭০৩৪৬৯০
